Messi: লিওনেল মেসি, আর্জেন্টিনার ফুটবল কিংবদন্তি, তার অসাধারণ খেলার জন্য বিশ্বব্যাপী পরিচিত। ২০১৭ সাল ছিল মেসির ক্যারিয়ারে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বছর, কারণ সে বছরই তিনি আরও অনেক নতুন চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেছিলেন এবং তার আর্থিক অবস্থা নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছিল। ফুটবলে তার অবদান, ব্র্যান্ডিং চুক্তি, এবং ব্যবসায়িক উদ্যোগগুলো তাকে বিশ্বের অন্যতম ধনী অ্যাথলেট হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

Messi: এই নিবন্ধে আমরা ২০১৭ সালে মেসির নেট ওয়ার্থ বিশ্লেষণ করব, এবং তার আয়ের উৎস, চুক্তি, স্পন্সরশিপ, ব্যবসায়িক উদ্যোগ এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করব।
১. Messi: মেসির আয়ের প্রধান উৎস

Messi: মেসির ২০১৭ সালের নেট ওয়ার্থের প্রধান উৎসগুলো ছিল:
- ফুটবল চুক্তি: বার্সেলোনার সঙ্গে মেসির চুক্তি ছিল তার আয়ের প্রধান উৎস।
- স্পন্সরশিপ চুক্তি: মেসি বিশ্বমানের স্পন্সরদের সাথে নানা চুক্তি করেছিলেন, যা তাকে বড় অঙ্কের আয় প্রদান করেছিল।
- ব্যবসায়িক উদ্যোগ: মেসি তার নিজস্ব ব্র্যান্ড এবং বিভিন্ন ব্যবসায়িক উদ্যোগের মাধ্যমে আয়ের সুযোগ সৃষ্টি করেছিলেন।
২. মেসির ফুটবল চুক্তি

Messi: ২০১৭ সালে, মেসি বার্সেলোনার সাথে তার দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি পুনর্নবীকরণ করেন। এই চুক্তি তাকে বছরে প্রায় ৫০ মিলিয়ন ডলার আয়ের সুযোগ দেয়। তার চুক্তি ছিল বিশ্বের অন্যতম বড় ফুটবল চুক্তি, যা তাকে বার্সেলোনার প্রধান তারকা হিসেবে আরও একবার প্রতিষ্ঠিত করে।
মেসির ফুটবল চুক্তির বিশ্লেষণ:
চুক্তির উপাদান | পরিমাণ ($) |
---|---|
বার্ষিক বেতন | ৩৫ মিলিয়ন |
পারফরম্যান্স বোনাস | ১৫ মিলিয়ন |
চুক্তির মোট পরিমাণ | ৫০ মিলিয়ন |
Messi: এই চুক্তি মেসির জন্য উল্লেখযোগ্য কারণ এটি তাকে আরও দীর্ঘ সময়ের জন্য বার্সেলোনার সাথে যুক্ত রাখে, এবং তার খেলার মান বজায় রাখার জন্য বোনাস ও বেতন প্রদান করে।
৩. স্পন্সরশিপ চুক্তি

২০১৭ সালেও মেসির স্পন্সরশিপ চুক্তি তাকে বিশাল আয়ের সুযোগ দিয়েছিল। তার প্রধান স্পন্সর হিসেবে ছিল অ্যাডিডাস, পেপসি, গিলেট, হুয়াওয়ে, কোকা-কোলা, স্টারবক্স, এবং আরও অনেক বিশ্বব্যাপী ব্র্যান্ড। এইসব ব্র্যান্ডের সাথে মেসির চুক্তি তাকে বছরে কয়েক মিলিয়ন ডলার উপার্জন করতে সাহায্য করেছিল।
মেসির স্পন্সরশিপ আয়ের বিশ্লেষণ:
ব্র্যান্ড | আয় ($) |
---|---|
অ্যাডিডাস | ১২ মিলিয়ন |
পেপসি | ৭ মিলিয়ন |
গিলেট | ৫ মিলিয়ন |
হুয়াওয়ে | ৫ মিলিয়ন |
কোকা-কোলা | ৪ মিলিয়ন |
স্টারবক্স | ৩ মিলিয়ন |
৪. মেসির ব্যবসায়িক উদ্যোগ

মেসি তার ফুটবল ক্যারিয়ার ছাড়াও ব্যবসায়িক উদ্যোগে সাফল্য অর্জন করেছেন। ২০১৭ সালে, মেসি তার রেস্তোরাঁ “Messi’s” চালু করেন, যা বিশ্বজুড়ে তার ব্র্যান্ডের আরও প্রসার ঘটিয়েছে। এছাড়াও, তিনি প্রপার্টি ব্যবসায় বিনিয়োগ করেছিলেন এবং ফুটবল থেকে উপার্জিত অর্থের একটি অংশ অন্যান্য ব্যবসায়েও যুক্ত করেছিলেন।
মেসির ব্যবসায়িক আয় বিশ্লেষণ:
ব্যবসা | আয় ($) |
---|---|
রেস্তোরাঁ | ৪ মিলিয়ন |
হোটেল | ৩ মিলিয়ন |
প্রপার্টি | ৫ মিলিয়ন |
৫. মেসির নেট ওয়ার্থ

২০১৭ সালের শেষে, মেসির মোট নেট ওয়ার্থ ছিল প্রায় $৩৭০ মিলিয়ন। এটি ছিল তার ফুটবল চুক্তি, স্পন্সরশিপ, ব্যবসায়িক উদ্যোগ, এবং অন্যান্য আয়ের উৎসের সমন্বয়ে অর্জিত। মেসি তার জীবনের এক বৃহৎ অংশই দান করেন, এবং তার ফাউন্ডেশন “Leo Messi Foundation” এর মাধ্যমে তিনি দান করেন শর্তহীন সাহায্য ও শিশুশিক্ষার জন্য।
মেসির নেট ওয়ার্থ বিশ্লেষণ:
আয় উৎস | পরিমাণ ($) |
---|---|
ফুটবল চুক্তি | ৫০ মিলিয়ন |
স্পন্সরশিপ | ৩৬ মিলিয়ন |
ব্যবসায়িক উদ্যোগ | ১২ মিলিয়ন |
মোট নেট ওয়ার্থ | ৩৭০ মিলিয়ন |
৬. দাতব্য কাজ

মেসি শুধু তার খেলা এবং ব্যবসায়িক উদ্যোগের মাধ্যমে সফল হননি, তিনি তার নেট ওয়ার্থের একটি বড় অংশ দাতব্য কাজের জন্য ব্যয় করেন। Leo Messi Foundation প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে, মেসি শিশুদের জন্য শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী বিভিন্ন প্রকল্পে ব্যাপকভাবে সহায়তা করেছেন। তার এই দানশীলতা তাকে আরও বেশি মানুষের হৃদয়ে স্থান দিয়েছে এবং তার সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধি করেছে।
৭. প্রতিযোগিতা ও রেকর্ড

২০১৭ সালে মেসির নেট ওয়ার্থ তাকে বিশ্বের অন্যতম ধনী ফুটবল খেলোয়াড় হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো, তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী, ২০১৭ সালে মেসির তুলনায় কিছুটা কম আয়ের মধ্যে ছিলেন, যার নেট ওয়ার্থ ছিল প্রায় $৩৩০ মিলিয়ন। তবে, মেসি তার সমগ্র ক্যারিয়ারে তাকে টপকাতে সক্ষম হয়েছেন, বিশেষ করে তার ব্যবসায়িক উদ্যোগ এবং স্পন্সরশিপ চুক্তির মাধ্যমে।
৮. মেসির ভবিষ্যৎ

মেসির ২০১৭ সালের নেট ওয়ার্থ তার ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা বছর হিসেবে পরিচিত, তবে তার ভবিষ্যত আরও উজ্জ্বল হতে পারে। যেহেতু তার খেলার দক্ষতা এবং তার ব্র্যান্ড মূল্য বর্তমানে অনেক উঁচু, তাই ধারণা করা হচ্ছে যে তার নেট ওয়ার্থ আরও বাড়বে। আগামী বছরগুলোতে যদি মেসি তার খেলোয়াড়ি জীবন অব্যাহত রাখেন এবং আরও নতুন ব্যবসায়িক উদ্যোগে অংশগ্রহণ করেন, তাহলে তার আয়ের পরিমাণ আরও বৃদ্ধি পেতে পারে।

মেসির ২০১৭ সালের নেট ওয়ার্থ তার অনবদ্য ফুটবল কেরিয়ার, বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে করা ব্যবসায়িক উদ্যোগ, এবং সফল স্পন্সরশিপ চুক্তির একটি ফলস্বরূপ। তার অর্জিত আয়ের বিভিন্ন উৎস মেসিকে শুধু ফুটবল জগতেই নয়, অন্যান্য ক্ষেত্রে একজন সফল উদ্যোক্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। মেসি তার ক্যারিয়ারে ফুটবল এবং ব্যবসায়িক সফলতা, দুই ক্ষেত্রেই অবিস্মরণীয় অবদান রেখেছেন, এবং ভবিষ্যতে তার নেট ওয়ার্থ আরও বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।